রমজানে খাবারের প্রস্তুতি

পবিত্র আল কুরআন রমজান মাসে নাযিল হয়। সর্বদা মানব জাতির জন্য আল-কুরআন সত্যের পথ প্রদর্শক। প্রত্যেক মুসলিমের জন্য রোজা ফরয শুধুমাত্র অসুস্থ ও ভ্রমণরত অবস্থা বাদে। রমযান মাস রহমতের মাস, আত্মিক শুদ্ধতা ও শারীরিক পরিশুদ্ধের মাস, উপাসনার মাস। রমযান মাসকে প্রধানত তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-প্রথম ১০ দিন আল্লাহর অশেষ রহমত বর্ষণ করেন। মধ্যবর্তী ১০ দিন আল্লাহ ক্ষমা প্রদর্শন করেন এবং শেষ ১০ দিন অশেষ জাহান্নামের আগুন থেকে পরিত্রানের জন্য রহম করেন। সারাবছরের মধ্যে রমজান মাস সবচেয়ে নিয়মতান্ত্রিক একটি মাস। যেমন: নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার করা, তারাবিহ পড়া এবং সেহরী করা। আমাদের দেশে সাধারণত রোজায় বাসাবাড়িতে ভাজা পোড়া খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। লোকজন সচেতন হচ্ছেন না তা নয়। কেউ কেউ অতি সচেতনতায় ভুল করছেন, আবার কেউ কেউ অসচেতনভাবেই ভুল করছেন। যার কারণে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিযোগে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। আবার সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে কে না চায়! সুতরাং রমজানে সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলুন।

১. আসরের ওয়াক্ত থেকে ইফতারীর আগ পর্যন্ত আমল করার সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তাই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে এমন আইটেম তৈরীর যা আসর ওয়াক্তের আগে তৈরি করলেও ইফতারীতে খেতে যেন কোনো সমস্যা না হয়। যেমন খোরমা, কাঁচা ছোলা, ভাজা ছোলা, চপ, খিচুড়ি, স্যুপ তৈরী করে হটপটে রেখে দেয়া, আস্ত ফল ইত্যাদি।

২. ইফতারী ও সেহরীর উদ্দেশ্য বাজার করতে হবে এমনভাবে যেন সারা রমজান মাসে ৫-৭ জনের পরিবারে তেল কিনতে হয় ৫-৬ কেজি। কারণ ভাজাপোড়া ইফতারী যাতে কম তৈরি হয়। ইফতারীতে ভাজাপোড়া খাবার দেহে চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

৩. তোকমা, লেবু, কাচামরিচ, ধনে পাতা, পুদিনা পাতা, সবজি বেশি করে কিনে রাখুন। রোজা রেখে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে কোষ্ঠকাঠিন্য অনেক ক্ষেত্রেই বেড়ে যায়। রমজানে রাতের খাবার এবং সেহরীতেই শুধু সম্পূর্ণ খাবার খাওয়া যায়। তাই যেসব সবজিতে খাদ্যআঁশ বেশী পরিমাণে থাকে সেগুলো কিনে রাখুন। যেমন: ঢেড়ষ, সজনে, ডাটা, ডাটাশাক ইত্যাদি।

৪. মাছ বা মাংস ৭ দিনের বেশি স্টোর করার প্রয়োজন নেই। প্রোটিন জাতীয় খাদ্য হিসেবে ডিম রাখতে পারেন। রাতের খাবার আর সেহরিতে মাছ রাখলে মাংসের প্রয়োজন নেই আবার মাংস রাখলে মাছের প্রয়োজন নেই।

৫. ফলের স্টোরেজ বাড়াতে হবে। সঙ্গে লেবু রাখুন যথেষ্ট পরিমাণে। পাশাপাশি কম চিনিযুক্ত শরবত, জুস, লাসসি রাখুন। উচ্চ মাত্রার চিনি ইফতারে গ্রহণ করলে তা ওজন বাড়ায়।

৬. রোজায় দুধ-দধি নিয়মিত খাওয়ার ব্যবস্থা রাখুন।

৭. চিড়া, মুড়ি, খইয়ের মত ফাইবারযুক্ত খাবার নির্বাচনে প্রাধান্য দিন। বেশী সময় পেট ভরা থাকবে ভেবে অনেকেই সেহরীতে অধিক খাবার গ্রহণ করেন। যা ঠিক নয়। ওটস বা ওটসের তৈরী খাবার, চিড়া বা খেজুর দীর্ঘ সময় এনার্জি পেতে সেহরীতে এ ধরণের ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ করুন। এ ধরণের খাবার দীর্ঘ সময় ক্ষুধা লাগা থেকে বিরত রাখে।

৮. কোনো ভাজাপোড়ার রান্না করতে চাইলে বেসনের পরিবর্তে চালের গুড়া ব্যবহারে গুরুত্ব দিন। সেজন্য আগে থেকে চালের গুড়া তৈরি করে ফ্রিজিং করতে পারেন।

সৈয়দা শারমিন আক্তার

সিইও এন্ড প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট
© ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার
(article posted to Daily Desh Rupantor)

Send message to Diet Counseling Centre