কিটোজেনিক ডায়েট (keto diet)

ওজন কমানোই কী সব?

কিটোজেনিক ডায়েট (keto diet)

এবার আসা যাক বহুল আলোচিত-সমালোচিত কিটোজেনিক ডায়েট নিয়ে। Ketogenic diet মোট ৫ ধরণের হয়ে থাকে। উৎপত্তির কথা নাই বললাম। শুধু এতোটুকুই জেনে রাখুন, ১২ বছর গবেষনার ফসল কিটোজেনিক ডায়েট। মৃগীরোগীদের ওষুধ আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত ব্যবহার করা হতো। ওষুধ আবিষ্কারের পর এ ডায়েটকে গ্রহণযোগ্য নয় বলা হয়েছে। কারণ সাইড ইফেক্ট হিসেবে অতিরিক্ত ওজন হ্রাস পেতো। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধরণের স্বাস্থ্য সমস্যাও দেখা দিতো। যেহেতু ওজন হ্রাস পায় সে জন্য অনেকের মনে হতে পারে, কিটোজেনিক ডায়েট ওজন কমানোর খুবই কার্যকর ডায়েট।

কুফল:

আমাদের পাওয়া কিটোজেনিক ডায়েট অনুসরণকারীদের কিছু তথ্য তুলে ধরছি।

  • ডায়াবেটিস না হওয়া সত্তেয় হাইপো গ্লাইসেমিয়ায় আত্রান্ত হচ্ছেন।
  • গলব্লাডার রিমুভ একজনের তো সারাদিন রাত শুধু বমিই হয়েছে।
  • এসিডিটি অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • মেটাবলিক রেট একেবারে স্লো হয়ে গেছে। ক্ষুধামন্দা দেখা দিয়েছে।
  • সবকিছু ভুলে যাচ্ছেন এমনকি দোকানে কিছু কিনতে গেলেও কতটাকার কিনেছেন বা কত ফেরত পাবেন বা কী কী কিনেছেন সবকিছু।
  • শরীর অসম্ভব রকম ড্রাই থাকে, সারাক্ষণ পানি পিপাসা লাগে। মনে হচ্ছে হাত-পা জ্বালা করছে। ডিহাইড্রেশন হয়।
  • চুল আগের তুলনায় একেবারে কমে গেছে।
  • মেজাজ কন্ট্রোল করা যাচ্ছে না। সবার উপর রাগ করার প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
  • হঠাৎ হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যায়। সে সময় অন্য কোনো কাজ করা যায় না।
  • আগে ওষুধ খেতে হতো না। কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপের জন্য মেডিসিন খেতে হচ্ছে।
  • ডিসলিপিডেমিয়া হয়ে গেছে। অর্থাৎ খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু ভালো কোলেস্টেরল কমে যাচ্ছে।

keto diet আসলে কারোর জন্য প্রযোজ্য নয়। এখন পর্যন্ত দীর্ঘদিন কিটোজেনিক ডায়েট অনুসরণের ফলাফলের কোনো গবেষণা হয়নি। কারণ তার আগেই সমস্ত স্বাস্থ্যসমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে। ফলে কিটোজেনিক ডায়েট অনুসরণ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। যে কোনো ডায়েট অনুসরণেই প্রচুর পানি খাওয়া ও এক্সারসাইজ জরুরি। তাহলে কেনো নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস বাদ দিয়ে অন্যদেশিয় খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হতে হচ্ছে?

আমরা দেখেছি সুষম খাদ্যাভ্যাসে
  • ২ মাসে ১০ কেজি, ৪ মাসে ২০-২৫ কেজি, ৬-৮ মাসে ৪৫-৪৮ কেজি পর্যন্ত কমাতে পেরেছেন। শুধু তাই নয় সবধরণের খাবার খেয়েও ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও সম্ভব হচ্ছে।
  • এনার্জি লেভেল যাদের কম ছিলো তারা আগের চেয়ে অনেকবেশি এনার্জেটিক ও সুস্থ।
  • যাদের উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য মেডিসিন খেতে হতো, তাদের নিয়মিত মেডিসিন খেতে হয় না।
  • চুল পড়া বন্ধ হয়েছে।
  • পিসিওএসের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত মিনস্ট্রেশন নিয়ন্ত্রণ হয়েছে।
  • ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে এসেছে।
  • যাদের লিপিড প্রোফাইল বেশি ছিলো তাদের কোলেস্টেরল কমেছে।
  • হাইপোথায়রয়েড নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
  • ফ্যাটি লিভার স্বাভাবিক হয়েছে।
  • সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং কিছু নিয়মকানুন অনুসরণ করে কিশোর-কিশোরির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • অনেকেরই যাদের নিয়মিত ঠান্ডা-কাশির জন্য মেডিসিন খেতে হতো তাদের ঠান্ডা সমস্যা একেবারে ঠিক হয়ে গেছে।

সুষম খাদ্যাভ্যাসের এতো সুবিধা থাকা সত্তেয় কেনো নিজেদের খাদ্যাভ্যাসকে বিসর্জন দিয়ে অন্যদেশের খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হবো??? অবশ্যই নিজের দেশের খাদ্যাভ্যাসের উপর বিশ্বাস স্থাপন করুন। কারণ ওবেসিটি আমাদের দেশিয় খাদ্যাভ্যাস থেকে তৈরি হয়নি। হয়েছে অন্য দেশের খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে। নিজের প্রতি আস্থাশীল থাকুন, সুস্থ থাকুন। নিজে না বুঝলে অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।

সৈয়দা শারমিন আক্তার

সিইও এন্ড প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট
© ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার

Send message to Diet Counseling Centre