কিডনি রোগ কোন নতুন সমস্যা নয়। তবুও বিশ্বব্যাপী এ রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। আমাদের দেশে বর্তমানে অনেকেই স্বাস্থ্য সচেতন। তবে বেশির  ভাগ লোকই বিভিন্ন রোগের উপসর্গ যেমন খাবারে অনিহা, বমি বমি ভাব, ঝিমুনি, প্রসাব জটিলতা, ইডিমা ইত্যাদিকে মানসিক চাপ বা দুর্বলতা মনে করে গুরুত্ব দেন না। বয়স বাড়ারসাথে সাথে আমাদের শরীরে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটে।

যেমন: ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি। যা নিয়ন্ত্রনে না রাখলে কিডনি রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে। তবে কিডনি রোগ যদি হয়েই যায় সেক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ আছে যা কিডনি রোগীকে অবশ্যই মেনে চলতে হবে। যেমন:

  • লবণ ও লবণ যুক্ত খাবার যেমন: নোনা ইলিশ, শুটকি, নোনতা বিস্কুট, চানাচুর, চিপস, নান রুটি, তন্দুরি রুটি, টেস্টিং সল্ট ইত্যাদি খাবার তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে।
  • ডাল ও ডাল জাতীয় খাবার, কোমল পানীয়, কফি, বাদাম ও বাদামের তৈরি খাবার, ছোলা, কেক, পেস্ট্রি গ্রহণ বাদ দিতে হবে।
  • তামাক, জর্দা খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা পরিহার করতে হবে।
  • যেকোন প্রকার অ্যালকোহল গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • কম ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে।
  • প্রোটিন যথাসম্ভব কম গ্রহণ করতে হবে।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • রক্তচাপের মাত্রা সবসময় স্বাভাবিক রাখতে হবে।
  • ডায়াবেটিস থাকলে তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। অবশ্য অনেক সময় কিডনি রোগে পানি ও তরল এর মাত্রা নির্দিষ্ট থাকে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে নিতে হবে।

কিডনি রোগ খুবই জটিল সমস্যা। প্রথম দিকে রোগটি সনাক্ত করতে পারলে সমস্যা অনেকটাই এড়ানো যায়। তাই যেকোনো অসুস্থতার উপসর্গকে এড়িয়ে না গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।

যে সকল পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস আছে তাদের অবশ্যই জীবন যাত্রার সাথে খাদ্যাভ্যাসের সামঞ্জস্যতা থাকা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ গ্রহণ করা যেতে পারে।