অপুষ্টি আমাদের দেশের একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। অপর্যাপ্ত খাদ্য গ্রহণ, ভেজাল খাদ্য গ্রহণ, আঁশ বর্জিত খাদ্যাভ্যাস, উত্তেজক খাদ্য গ্রহণ, অপর্যাপ্ত পানি পান ইত্যাদি নানা কারণ ছাড়া মানসিক চাপ, অস্থিরতা, পরিশ্রম না করা ইত্যাদি নানা কারণে এ ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

শ্রেণিবিভাগ

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ২ ধরনের Gastrointestinal Disease এ মানুষ আক্রান্ত হয়।

খাদ্য পরিকল্পনা:
  • রোগের তীব্রতা: পেটে ব্যথা ও বমিসহ জটিলতার কারণে পুষ্টি ঘাটতি দেখা দেয়। রোগের তীব্র অবস্থায় ও রোগাক্রান্ত অবস্থায় সঠিক খাবার আবশ্যক। অপর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের শোষণ ব্যাহত হওয়া, পুষ্টি উপাদানের ক্ষয় বৃদ্ধি, দেহে অত্যাধিক পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বৃদ্ধি, ওষুধ সংক্রান্ত কারণে পুষ্টি উপাদানের শোষণ ব্যাহত হয়। ফলে অপুষ্টি জটিল আকার ধারন করতে পারে।
  • রোগের তীব্র অবস্থায়: রোগের তীব্র অবস্থায় খুব অল্প পরিমানে তরল খাবার সরবরাহ করতে হয়। এর মধ্যে বমি বা পাতলা পায়খানা বা পেটে গ্যাস হলে দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য ও যেকোনো ধরনের উত্তেজক খাবার, ফ্যাট জাতীয় খাদ্য নিষেধ। এ অবস্থায় তরল খাবারের কোন বিকল্প নাই। ভাতের স্যূপ, সবজির স্যুপ, বাচ্চা মুরগির স্যূপ, পানি মিশিয়ে ফলের রস (সাইট্রাস ফল ছাড়া) ১ থেকে ২ ঘণ্টা অন্তর দেয়া যেতে পারে।
  • রোগের তীব্রতা কিছুটা কম হলে: ধীরে ধীরে রোগের তীব্রতা কমে আসলে খাবারের ঘনত্ব বাড়বে ও সময়ের ব্যবধানও বাড়বে। অর্থাৎ প্রথমে পর্যায়ে ১০-১২ বার খাবার দিতে হয়, যা এ সময়ে ধীরে ধীরে ৬-৭ বারে চলে আসবে।
  • তীব্রতা আরও কমলে: তরলের পরে সেমি সলিড যেমন: জাউ ভাত, সুজি, সাগু, কম মশলাযুক্ত মুরগির ঝোল, কম মশলাযুক্ত মাছের ঝোল, পানিতে দ্রবণীয় আঁশযুক্তসবজি (পেঁপে, লাউ, চালকুমড়া, পটল, চিচিংগা, ঝিঙা, আলু, কাঁচা কলা) দেয়া যেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে সলিউবল ফাইবার রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। এমতাবস্থায় মুচমুচে ভাজা খাবার, ডিপ ফ্রাই খাবার, অত্যাধিক মশলা যুক্ত খাবার, বড় আঁশযুক্ত খাবার বাদ দিয়ে চলতে হবে।
  • রোগী স্বাভাবিক পর্যায়ে আসলে: রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটার সাথে সাথে রোগীকে পর্যাপ্ত আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, ফোলেট ও আমিষ যুক্ত খাবার দিতে হবে। এর পাশাপাশি দৈনিক পর্যাপ্ত পানীয় ও তরল খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।