রোজা অটোফেজি প্রক্রিয়াকে সক্রিয় রাখে

১২-১৫ ঘন্টার অধিক সময় না খেয়েই রোজা থাকতে হয়। একটানা দীর্ঘদিন রোজা রাখতে পারলে দেহের সুস্থতা টের পাওয়া যায়। কারণ রোজা অটোফেজি প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করে এজিং প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং কোষ পুনর্গঠনের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। অটোফেজি এমন একটি পদ্ধতি যা দেহ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ও টক্সিনকে বের করে দেয়। এর পাশাপাশি নতুন ও সুস্থ কোষ পুনরোৎপাদনে সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে, দেহের শক্তিতে ব্যবহারের জন্য প্রোটিন কোষ ও অন্যান্য কোষ উপাদানের ভাঙ্গন ঘটে। দীর্ঘদিনের রোজায় অটোফেজি ঘটার সময় কোষের ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে দেহ থেকে বের করে দেয়। এ পদ্ধতিতে ক্ষতিগ্রস্থ কোষ পুনর্গঠনে সাহায্য করে।

সময়ের সাথে সাথে আমাদের দেহকোষে বিভিন্ন ধরণের মৃত কোষ বা কোষের অংশবিশেষ, ড্যামেজ্ড প্রোটিন এবং বিভিন্ন অক্সিডাইজ্ড কনা জমা হয় যা দেহের অভ্যন্তরীণ কাজকে বাধা দেয়। এটি এজিংকে ত্বরান্বিত করে, ডিমেনশিয়ার (স্মৃতিভ্রম) সূত্রপাত ঘটায় এবং ক্যান্সারসহ অন্যান্য বয়স জনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। মস্তিষ্কের কোষের মত আমাদের দেহের আরও অন্যান্য কোষ রয়েছে যাদের মৃত্যুরও আগ পর্যন্ত টিকে থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘদিনের রোজা নিজ প্রতিরক্ষার জন্য অটোফেজি স্বতন্ত্র একটি পন্থা আবিষ্কার করে নেয়।

দীর্ঘদিনের রোজায় দেহ যেভাবে কাজ করে

  • আমাদের বিপাক কার্য সম্পাদনের সময় কোষের যেসব ক্ষতিসাধনকারী বিভিন্ন উপাদান তৈরী হয়, প্রোটিন পি৬২ সক্রিয় হয়ে সেগুলোকে ধ্বংস করে।
  • পি৬২ প্রোটিন সকল ক্ষতিকারক উপাদান যা দেহে জমা থাকে তা দূর করে, দেহকে চাপ মুক্ত হতে সাহায্য করে।
  • দীর্ঘদিনের রোজায় পি৬২ প্রোটিন দেহের হোমিওস্টেটিস (ব্যালেন্সড সেলুলার ফাংশন) ঘটায়। ফলে সময়ের সাথে সাথে সকল ক্ষতিগ্রস্ত উপাদানগুলো নতুন কোষ গঠন করে সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।
  • এছাড়া দীর্ঘদিনের রোজা এজিং প্রসেসকে মন্থর করে।
  • বিভিন্ন প্রদাহ হ্রাস করে এবং দেহে প্রাকৃতিকভাবে কাজ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  • দেহের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে দীর্ঘায়ু দান করে।
  • নিউরোডিজেনারেটিভ ডিজিজ প্রতিরোধ করে বা ধীর গতি করে। তাছাড়াও ত্বকের রুক্ষতা দূর করে সুস্থ ত্বক তৈরিতে সাহায্য করে।

বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত যে, রোজা দীর্ঘ সময় বেঁচে থাকার অন্যতম উপায়। রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো, ওজন কমানো ও মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটানো সম্ভব। এমনকি উচ্চরক্তচাপের জন্যে রোজা উপকারী। রোজা রেখে ১৫ পাউ- পর্যন্ত ওজন কমানো যায়। কোনো কেমোথেরাপি রোগী যদি ৫দিন টানা রোজা করে, তার অনেকবেশী ক্যান্সার সেল ধ্বংস হবে। রোজায় অটোফেজি শুরু হয় একটানা ১৫ দিন রোজা করার পর। তবে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা দীর্ঘ রোজার ভালো দিকগুলোকে প্রভাবিত করে।

রোজায় সুস্থ থাকতে এবং খাবার নির্বাচনে কমচিনিযুক্ত খাবার, অতি আঁশযুক্ত খাবার, অধিক পানি ও পানিয়, পর্যাপ্ত প্রোটিন ও তেল বা চর্বি এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল গ্রহণ করা উচিত।

২০১৬ সালে জাপানী বিজ্ঞানী ণড়ংযরহড়ৎর ঙযংঁসর কোষ রিসাইকেল ও পুনর্গঠন নামক একটি পদ্ধতি – অটোফেজি এর উপর গবেষণার জন্য মেডিসিনে নোবেল পুরষ্কার পান। এ গবেষণায় প্রমাণিত, একটানা দীর্ঘদিন রোজা রাখলে এবং ১৪ ঘন্টার বেশী অভুক্ত থাকলে দেহে অটোফেজি প্রক্রিয়া চালু হয়ে যায়।

সৈয়দা শারমিন আক্তার

সিইও এন্ড প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট
© ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার
(article posted to Daily Desh Rupantor)

Send message to Diet Counseling Centre