রোজায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে করণীয় – ২

একটা রোজা পালনে এখন প্রায় পনেরো ঘন্টা অভূক্ত থাকতে হয়। লম্বা সময় হওয়াতে একটু অসাবধান হলেই দেহে নানা ধরণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যে কারণে কারো কারো সুস্থভাবে রোজা রাখা কষ্টকর হয়ে যায়। বয়সভেদে এক একটা পরিবারে নানা রকম রোগ ব্যধিও থাকে। রোজা রাখার নিয়ম মেনে চললে যে কেউ সারা বছরের চেয়ে রোজার সময়েই অন্যান্য সময় অপেক্ষাকৃত ভাল থাকেন। রোজায় সাধারণত অবসাদগ্রস্থতা ও দূর্বলতা, হজমে অসুবিধার জন্য পেটে গ্যাস হওয়া, মাথা ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, হাইপোগ্লাইসেমিয়া, মাস্ল ক্রাম্প, এসিডিটি বা বুক জ¦ালা হতে পারে। এসব সমস্যা সমাধানে এবং রোজায় সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলুন।

 

কোষ্ঠকাঠিন্য:

কম পানি ও কম আঁশযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবার যদি রোজায় বেশি খাওয়া হয় তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য মারাতœক আকার ধারণ করতে পারে। যদি কারোর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দেয়, তাহলে ইফতারী থেকে সেহরী পর্যন্ত কমপক্ষে ৩ লিটার পানি পান করুন। যা ইফতার থেকে রাতে ঘুমের আগেই খেতে হবে প্রায় আড়াই লিটার পানি। পাশাপাশি ইফতার পরবর্তি খাবার হিসেবে লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত, সবজি, ঢেড়স বেশী খেতে হবে। ইফতারীর সময় এবং সেহরীতে পানির সঙ্গে ইষবগুলের ভূষি ১ টে.চামচ করে মিশিয়ে খেতে হবে।

 

হাইপোগ্লাইসেমিয়া:

রক্তে গ্লুকোজ কম থাকলেই মস্তিষ্কেও গ্লুকোজ কম পৌঁছাবে। সারাদিন অভূক্ত থাকলে কখনো কখনো রক্তে গ্লুকোজের ম্ত্রাা কমে যেতে পারে। গ্লুকোজ কমে যাওয়ার এ অবস্থাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে। লক্ষণ হিসাবে দেখা যায় দূর্বলতা, ঘুম ঘুমভাব, অমনোযোগিতা, কাজে কম একাগ্রতা, মাথা ব্যথা, চোখ অন্ধকার হয়ে আসা ইত্যাদি। যাদের মধ্যে এ সমস্যা দেখা দেয় তাদের সেহরীতে খাবার শেষে একটি ফল বা দুটো খেজুর এবং ১ কাপ দুধ খাওয়া উচিত। তবে গ্লুকোজ কমে যাচ্ছে বলে ইফতারীতে অধিক চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

মাস্ল ক্রাম্প:

প্রতিনিয়ত আমাদের দেহের মাংসপেশী নড়াচড়া করে। কিন্তু এই চলমান অবস্থা হঠাৎ যদি থেমে যায় বা আটকে থাকে তখন যে অবস্থা সৃষ্টি হয় তাকে মাস্ল ক্রাম্প বলে। অনেক সময় মাস্ল ক্রাম্পের কারণে ঘুমন্ত মানুষও জেগে যেতে পারেন। খাবারে অপর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম কম গ্রহণ করলে মাসল ক্রাম্প হতে পারে। রোজায় সাধারণত মাত্র ৩টা সময়ই খাওয়ার সময়। এ সময়ে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়াম কম গ্রহণের ফলে মাস্ল ক্রাম্প হতে পারে। এক্ষেত্রে সবজি ফল, দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার, মুরগির মাংস, খেজুর ও পানি বেশি করে গ্রহণ করুন।

 

এসিডিটি বা বুক জ্বালা:

এসিডিটির কারণে অনেক সময় বুকের ঠিক মাঝখান বরাবর জ¦ালা করে, বুকে পিঠে ব্যথা হয়। রোজার সময় এ অবস্থার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ভাজা, মসলাযুক্ত খাবার, কফি, কোমল পানীয় দায়ী। তাই যাদের পেপটিক আলসার রয়েছে তাদের ফল, সবজি, বিশেষ করে খাওয়ার পরে চাঁপাকলা, ফলের রস, ঠান্ডা দুধ, বেলের শরবত ইত্যাদি খেলে উপকার পাবেন। ইফতারীতে ভাজাপোড়া এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পানের আগে সাগর কলা বা ডাবের পানি খেলে অনেকের তাৎক্ষণিক তীব্র ব্যথার সৃষ্টি করতে পারে। যাদের এসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা আগে থেকেই আছে তাদের একবারে বেশী পানি না নিয়ে অল্প অল্প কিছুটা ঠান্ডা পানি পান করা ভালো। এক্ষেত্রে অবশ্যই খাবার ভালো করে চিবিয়ে খেতে হবে। অতিরিক্ত গরম খাবার বর্জন করুন।

সৈয়দা শারমিন আক্তার

সিইও এন্ড প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট
© ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার
(article posted to Daily Desh Rupantor)

Send message to Diet Counseling Centre