রমজানে সুস্থ থাকার সহজ উপায়

রমজানুল মোবারাক। আল্লাহতা’লা রমজান মাসকে মানুষের কল্যাণে দান করেছেন। পবিত্র রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস। সারা বছরের নিয়মের সাথে ভিন্ন নিয়ম বা ভিন্ন ধারার সময় রমজান মাস। এ মাসে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার সবচেয়ে নিয়মতান্ত্রিক এবং সবচেয়ে সুন্দর সময়। খাদ্য ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে খাবারের ধরণ, খাবারের সময় সবই একটি নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। যেটা সারা বছরের অন্য কোন সময়ে হয় না। এই নির্দিষ্ট ছককে কাজে লাগিয়ে সুস্থতা, ওজন বাড়ানো-কমানো, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সবকিছুই করা যায়। যেমন: নির্দিষ্ট সময়ে ইফতার করা-তারাবিহ পড়া- সেহরী করা। শুধু তাই নয়, রোজার মাসে সবচেয়ে বেশী দেহ থেকে টক্সিক উপাদান বের হয় এবং আমারা সুস্থ থাকি। টক্সিক উপাদান বের হওয়ার কারণে এবং বিভিন্ন গবেষণার ফলাফল দেখে বর্তমান বিশ্বে অন্যান্য ধর্মাবলম্বিরাও রোজা রাখার ইচ্ছা পোষণ করছেন। আপনাকে জানতে হবে, কিভাবে তা সম্ভব। রোজার মাসের অসচেতন ইফতার আর সেহরির জন্য রোজার পরবর্তি সময়ে সবকিছুই যেন অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। আমাদের দেশে সাধারণত রোজায় বাসাবাড়িতে ভাজা পোড়া খাওয়ার ধুম পড়ে যায়। লোকজন সচেতন হচ্ছেন না তা নয়। কেউ কেউ অতি সচেতনতায় ভুল করছেন, আবার কেউ কেউ অসচেতনভাবেই ভুল করছেন। যার কারণে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিযোগে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। আবার সুস্বাস্থ্য ধরে রাখতে কে না চায়!  সুতরাং রমজানে সুস্থ থাকতে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলুন।

–           মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করা
–           অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার কম গ্রহণ করা
–           সেহরিতে অধিক খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত থাকা
–           ধূমপান থেকে বিরত থাকা
–           জটিল শর্করাজাত খাবার সেহরিতে গ্রহণ করা, যেমন কাঁচা আটার রুটি, ছাতু, ওটস
–           হালিমে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকে কিন্তু হজম হতে সময় লাগে, তাই হালিম খাওয়া যেতে পারে।
–           যেমন: আধা বাটি হালিম সমান এক টুকরা পুডিং (কম চিনিযুক্ত) এবং ২ টা মাঝারি সাইজের পেঁয়াজু। অথবা ১ টা চপ, ২ মুঠ মুড়ি এবং ১টা জিলাপি।
–           খোরমা বা খেজুরে রয়েছে খাদ্যআঁশ, জটিল শর্করা, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম। তাই ইফতারের শুরুতে খেজুর খাওয়া ভাল।
–           কাজু বাদাম বা বাদামে প্রোটিন এবং খাদ্যআঁশ বেশি। ফ্যাট থাকে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড হিসেবে। যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভাল।
–           কলাতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে বিধায় কলা খাওয়া উচিত।
–           ইফতারের পর পরই ব্যায়াম করবেন না। কেননা এসময় রক্ত প্রবাহ সরাসরি হজম প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকে।
–           ইফতার রাতে ঘুমানো পর্যন্ত ২.৫০ থেকে ৩ লিটার পানি বা পানীয় খেলে নানা রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
–           খাবারের মাঝখানে, খাবার শেষ করা মাত্রই পানি বা পানিয় পান থেকে বিরত থাকুন।

এক বাটি = মেলামাইনের স্যুপের বাটির ১ বাটি = মেজারিং কাপের খুব কাছাকাছি ১ কাপ। রমজানে ভাজা পোড়া এবং মসলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন। নিজেকে সুস্থ রাখুন।

আল্লাহ তা’লার শুকরিয়া যেন আমরা আদায় করতে পারি, সে চেষ্টা করতে ভুলবেন না। বড় আয়োজন করে খাবার তৈরিতে অতিরিক্ত সময় না দিয়ে এ সময়টাতে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকুন।

সৈয়দা শারমিন আক্তার

সিইও এন্ড প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট
© ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার
(article posted to Daily Desh Rupantor)

Send message to Diet Counseling Centre