জুভেনাইল ডায়াবেটিস থাকলেও রোজা রাখা সম্ভব

কিছুদিন আগেও হাইপার অথবা হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে অথবা ঝুঁকি আছে ভেবে যাদের টাইপ-১ অর্থাৎ ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস, তাদের রোজা রাখতে নিষেধ করা হতো। বিশেষ করে একটানা রোজা রাখা নিষেধ ছিলো। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, রক্তে যদি গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকবেশী কমে যায়, তখন দেহে যে অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। যাদের ডায়াবেটিস নেই তাদের কখনও হাইপো হয় না। কিন্তু রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ করে অগ্নাশয় নামক গ্রন্থি দিয়ে। এই গ্রন্থিও ৩টি কোষ থেকে ৩ ধরণের হরমোন নিঃসৃত হয়। আলফা কোষ থেকে বের হয় গ্লুকাগন, বিটা কোষ থেকে ইনসুলিন এবং ডেলটা কোষ থেকে সুমাটোস্ট্যাটিন। গ্লুকাগন হরমোন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়ায়, ইনসুলিন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায় এবং সুমাটোস্ট্যাটিন গ্লুকোজের সমতা বিধান করে। এখনও আবিস্কৃত হয়নি যে, কেন হরমোনগুলো নিঃসরণে সমস্যা হয়। ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় সমস্যা।  বিশে^র অন্যান্য দেশে প্রি-ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অগ্নাশয়ের কাজ ত্বরান্বিত করার চিকিৎসা করা হয়। প্রত্যেকেই ডায়াবেটিসের জন্য শুধুমাত্র ইনসুলিনকে দায়ী করে, কিন্তু ডায়াবেটিসের জন্য অর্থাৎ গ্লুকোজের উপর যে ৩টি হরমোন কাজ করে সবগুলোই মুলত ডায়াবেটিসের জন্য দায়ী। যেমন হাইপোগ্লাইসেমিয়া যখন হয়, তখন ইনসুলিনের নিঃসরণ থাকে কিন্তু গ্লুকাগনের নিঃসরণ কম থাকে। তাছাড়াও অনেক সময় অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসও দেখা যায়। সেক্ষেত্রে শুধু গ্লুকাগন বা ইনসুলিনের জন্যই হয়না, সুমাটোস্ট্যাটিনও এক্ষেত্রে দায়ী। দেখা যায় যাদের টাইপ-১ বা ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস থাকে দীর্ঘক্ষণ বা কয়েকদিন একটানা রোজা বা অভূক্ত থাকলে হঠাৎ হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়ে যেতে পারে। সেজন্যই মুলত ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস হলে আগে রোজা পালনে বাধাপ্রদান করা হতো। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হচ্ছে, সঠিক ডায়াবেটিক শিক্ষা, ঔষধ নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিয়ন্ত্রণ এবং দৈনন্দিন কাজের যথাযথ সমন্বয় করতে পারলে টাইপ-১ এবং টাইপ-২ সহ প্রাপ্ত বয়ষ্কদের ডায়াবেটিস রোগীরাও রোজা পালন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ইনসুলিন নির্ভর কিশোর-কিশোরীরা যে প্রচলিত ইনসুলিন নিতে হয়, তা দিয়েই রোজা পালন করতে পারে।

যাদের ছোটবেলা থেকে ডায়াবেটিস তাদের ইনসুলিন ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তা সত্ত্বেও সারাবছর কিশোর-কিশোরীদের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য হিমশিম খেতে হয়। রমজান মাসে বয়:সন্ধিক্ষণে যাদের ডায়াবেটিস থাকে, তাদের বছরের অন্যান্য সময়ে ইনসুলিনের সামঞ্জস্য বিধানে যতটা কষ্টকর, ঠিক ততটাই সহজ রমজান মাসের ইনসুলিনের সামঞ্জস্য বিধান করা। তবে রমজানের আগেই বয়:সন্ধিক্ষণের কিশোর-কিশোরী ও তার পরিবারের জন্য প্রাথমিক একটি পারিবারিক কাউন্সেলিং খুবই প্রয়োজন। শুধু তাই নয়, রোজা রাখা অবস্থায় নিয়মিত ফলোআপ খুবই প্রয়োজন। ইনসুলিন ব্যবস্থাপনার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই মানতে হবে। এ সমন¦য়ের মাধ্যমে উচ্চ এইচবি১সি যাদের রয়েছে তাদেরও হাইপোগ্লাইসেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

খাবার নির্দেশনা:

উচ্চ খাদ্যআঁশযুক্ত খাবার অর্থাৎ লাল চালের ভাত, গম ভাঙানো আটার রুটি, চিড়া, খইয়ের পাশাপাশি খেজুর/খুরমা, ডিম সেদ্ধ, মিক্সড ভেজিটেবল, মিক্সড সালাদ, মিক্সড নাট, শশার রায়তা, খিচুড়ি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। এর সঙ্গে জুস হিসেবে লেমন জুস, বাংগির মিল্কশেক, স্ট্রবেরি মিল্কশেক, ডাবের পানি অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

সৈয়দা শারমিন আক্তার

সিইও এন্ড প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট
© ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার
(article posted to Daily Desh Rupantor)

Send message to Diet Counseling Centre