ক্ষীণ স্বাস্থ্য ও ডায়াবেটিস রোগীদের ইফতার ও সেহরী

পবিত্র রমজানে অনেকেই সচেতনভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ইফতার ও সেহরী খাওয়ায় অভ্যস্থ না। সে কারণে এ মাসে নিজেকে সুস্থ রাখা সম্ভব হয় না। অথচ রোজা পালনে সঠিক খাদ্যাভ্যাস কী তা জেনে নিজেকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সঠিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্থ হতে এমন কোনো কঠিন পদ্ধতি মেনে চলার প্রয়োজন নেই। শুধু খেয়াল রাখুন, রোজা পালনে আপনার দেহের সুস্থতায় খাদ্যাভ্যাসে কী কী পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে প্রথমেই জেনে নিন রোজায় সাধারণত: দৈহিক সমস্যা কি কি হতে পারে এবং সমস্যা উত্তরণে কি ব্যবস্থা নিতে হবে।

সুস্থভাবে রোজা পালনে কিছু নিয়ম মেনে চলুন। যেমন ইফতারে লোভ সামলিয়ে কম আইটেমের ইফতার, রাতের খাবারের পরিমাণ একটু বেশি এবং সেহরীতে সহজপাচ্য বা কম খাদ্য গ্রহণ করা উত্তম। কিন্তু প্রায়শ: দেখা যায় সবাই ইফতার এবং সেহরীতেই বেশি পরিমাণে খাবার খাচ্ছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে। তাতে সমস্যা বাড়তেই থাকে। যেমন: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে না, হাইপারটেনশন, আমাশয়, কোষ্ঠবদ্ধতা, রক্তে লিপিডের পরিমান বাড়ে, এসিডিটি হয়। আবার অনেকেই দেখা যায় শেষের রোজাগুলো রাখতেই পারছেন না, খুবই কষ্ট করে রাখছেন। শুধু খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করে, খাদ্যাভ্যাস গ্রহণের অপকারিতা-উপকারিতা জেনে একটু নিয়ম-কানুন মেনে সাবধানতা অবলম্বন করলেই নিজেকে এবং পরিবারের সকলকে নিয়ে সুস্থভাবে রোজা পালন সম্ভব। সাধারণত রোজায় কিছু অনিয়মের কারণে অনেককেই দেখা যায় অনিয়ন্ত্রিত শারীরিক সমস্যায় ভোগেন এবং অসুস্থতা নিয়ে দু:শ্চিন্তা করেন।

শারীরিক অবস্থার উপর ভিত্তি করে রোজায় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন জরুরি। বিশেষ করে ইফতার ও সেহরীর খাবার কেমন হওয়া উচিত তার একটি গাইডলাইন দেয়া হলো-

ক্ষীণ স্বাস্থ্যের ইফতার ও সেহরী

ইফতার:

৩টি খেজুর, ১ গ্লাস টাটকা ঘরে বানানো ফলের জুস/ লেবুর শরবত, লুচি- ১টা/ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই- ১৫ টা/ তেলের পিঠা- ১টা যে কোন ১টি, দই ২-৪ টেবিল চামচ/ চিড়া মাখানো, হালিম আধা বাটি/ ডিম মিশ্রিত সবজি খিচুড়ী, মৌসুমী ফল- ১টা।

খাবারের পরিমান কম থাকলেও আইটেম বেশী রাখা উত্তম।

রাতের খাবারে রুটি খেলে তিনটা আর ভাত হলে দেড় কাপ পরিমান এর সাথে দু’টুকরো মাছ বা মাংস, আধা কাপ ডাল, আধা কাপ সবজি, এক কাপ ফুলক্রিম দুধ বা দুধের তৈরী খাবার খেতে হবে।

সেহরী

দুধ ভাত এবং সালাদ অথবা সবজি খেতে হবে, সবশেষে একটি মৌসুমী ফল খেয়ে রোজা রাখুন। অভ্যাস করুন ইফতার থেকে সেহরী পর্যন্ত কমপক্ষে আড়াই লিটার পানি খেতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগীদের ইফতার ও সেহরী:

ইফতার

শরবত- চিনি ছাড়া জাম্বুরা/তরমুজ/পেপের শরবত
সুপের চেয়ে সামান্য ঘন সবজি খিচুড়ী
দুটি পেয়াজু/ দুটি বেগুনি/ আধা কাপ হালিম- যে কোন ১টি
ছোলাভাজা ১ টে.চামচ/ দইবড়া ছোট ১টা- যে কোন ১টি
মৌসুমী মিষ্টি স্বাদযুক্ত ফল ছাড়া- ১ টি (তরমুজ/ পেপে/ আমড়া/ পেয়ারা/ চাপা কলা ইত্যাদি)

রাতের খাবার

রুটি + সবজি+ঘুমানোর আগে ১টি ফল খেতে পােেরন।

সেহরী

রুটি- ১টা/ মুড়ি- ৫ মুঠ/চিড়া- ২ মুঠ- যে কোন ১টি
আঁশযুক্ত সবজি কারি-১ কাপ
মাছ/ মাংস- ১ পিস/ ডালের ঘন অংশ- ২ টে.চামচ
কম চর্বিযুক্ত চায়ের কাপের ১ কাপ দুধ

সৈয়দা শারমিন আক্তার

সিইও এন্ড প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট
© ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার
(article posted to Daily Desh Rupantor)

Send message to Diet Counseling Centre