কোরবানির ঈদের মাংসের গুণ

কোরবানির ঈদের মাংস খাওয়া নিয়ে ভাবছেন???

কোরবানির ঈদে বাসাবাড়িতে বিভিন্ন ধরণের খাবারের আয়োজন যেমন মিষ্টিজাত খাবারের প্লেটে জায়গা করে নেয় ঝাল, মসলা জাতীয় খাবার। প্রাধান্য পায় গরু ও খাসির মাংসের বিভিন্ন ধরণের আইটেম। এতে যাদের ওবেসিটি আছে, কিংবা কোলেস্টেরল বেড়ে গেছে, হাইপারটেনশন, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে ভুগছেন, তারা বাড়তি চিন্তায় পড়েন। মাংস খাওয়ার ইচ্ছা যেমন জাগে, দেহের সমস্যা নিয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগে থাকেন। কী খাবেন বা কীভাবে খাওয়া উচিত?

গরু বা খাসির মাংসের পুষ্টিমূল্য:

জেনে নেয়া যাক গরুর মাংসের পুষ্টিগুণ-
প্রতি ১ পরিবেশনে ৮৫ গ্রাম/ ৩ আউন্স।

পুষ্টি উপাদানগরুর মাংসগরুর কলিজাগরুর মগজ
প্রোটিন২২ গ্রাম২২ গ্রাম৯.৯ গ্রাম
সম্পূর্ণ চর্বি১৩ গ্রাম৩.৯ গ্রাম৯ গ্রাম
কোলেস্টেরল৭৭ মি.গ্রা.৩০২ মি.গ্রা.২৬৩৫ মি.গ্রা.
সোডিয়াম৬১ মি.গ্রা.৪২ মি.গ্রা.৯২ মি.গ্রা.
পটাশিয়াম২৭০ মি.গ্রা.১৪২ মি.গ্রা.২০৭ মি.গ্রা.
আয়রন১২%৮৪%১১%
বি৬১৫%২৫%
বি১২৩৬%২৬৫%
কার্বোহাইড্রেটসামান্য পরিমানে আছে

ওবেসিটি, হৃদরোগ কিংবা উচ্চ রক্তচাপে যারা ভুগছেন তারা কখনও গরু বা খাসির মাংস খেতে পারবেন না তা নয়। ঈদের দিনে মধ্যে দু-একবার গরু বা খাসির মাংস খেতে পারবেন তবে অবশ্যই চর্বির অংশটি ফেলে দিয়ে খেতে হবে। শুধু তাই নয় গরু-খাসির লুকায়িত চর্বি যেহেতু ঝোলের মধ্যে চলে আসে ঝোল বিহীন মাংস ৩-৪ পিস করে ২-৩ বার খেতে পারবেন। তাছাড়া এসব শারীরিক সমস্যায় বারবিকিউ গ্রিল, কাবাব খাওয়া যেতে পারে।

ওজন কম, লো-প্রেসার কিংবা এনিমিয়ায় রয়েছে তারা চর্বিছাড়া গরুর মাংস নির্দিধায় খেতে পারেন। গরুর মাংসে যেহেতু ফলিক এসিড, আয়রণ, ভিটামিন বি রয়েছে, এগুলো রক্ত তৈরিতে ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য খুবই উপকারী। কিশোর-কিশোরী যারা সঠিক ওজনে আছে তারা চর্বিসহ গরুর মাংস ভালো পরিমানে খেতে পারবে।

গরুর মাংসের চর্বি কমাতে- মাংস কাটার সময় দৃশ্যমান চর্বি কেটে ফেলে দিতে হবে। তাছাড়া রান্নার শেষ পর্যায় বাধাকপি কুচি অথবা মাশরুম দিলে ক্ষতিকর চর্বিগুলো খুব বেশি ক্ষতি করতে পারে না। বারবিকিউ গ্রিলের সময় তেল ব্রাশ করার পরিবর্তে একটি গ্রেভি তৈরী করে নেয়া যেতে পারে। বানাতে হলে- ধনেপাতা বাটা, একটু সিরকা, সামান্য আদা ও পেঁয়াজ বাটা, সামান্য জিরার গুঁেড়া এবং পরিমাণমতো লবণ ও সামান্য পানি মিশিয়ে নিলেই হবে।

মাংসের ক্ষতিকর প্রভাব- সম্প্রতি এক ব্রিটিশ গবেষনায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত প্রোটিন হাড়ের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয়। আমেরিকার একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, মাংসভোজীদের চেয়ে সবজিভোজি মানুষ দেরিতে বৃদ্ধ হন। কারন মাংস হচ্ছে সম্পৃক্ত চর্বি এবং কোলস্টেরলের অন্যতম উৎস, এবং লৌহের অতিরিক্ত ভান্ডার, যা অক্সিডাইজড হয়ে মুক্ত রেডিকেল হিসেবে শুধুমাত্র কোষেরই ক্ষয় করে না, আরো ক্ষতিকর দিকও দেখা যায়। যেমন: জন্মগত ত্রুটি, বয়স বাড়ার টিস্যু বৃদ্ধি এবং ক্যান্সার কোষের জন্ম দেয়া ইত্যাদি। বড় বিষয় হচ্ছে মাংসে খাদ্যআঁশ খুবই কম, যার ফলে ওজন হ্রাস এবং রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়াতে কোন ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। অপরদিকে মাছ এবং সবজি গ্রহন যে কোন ব্যক্তিকে সুস্থ এবং নিরোগ রাখতে সাহায্য করে।

ঈদের আনন্দের সঙ্গে নিজেকে সুস্থ রাখুন। এখনই বাজার থেকে পর্যাপ্ত সবজি ও মাছ কিনে রাখুন। যেন ব্যালেন্সড ডায়েটের মাধ্যমে নিজেকে সবুজ ও সতেজ রাখতে পারা যায়। চির তারুণ্য কার না কাম্য!