অটিজম মস্তিস্কের বিকাশজনিত সমস্যা, যার কারণ আজও অজানা। এ সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে সামাজিক আচার আচরণ, যোগাযোগ ও ব্যবহারের সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। ধরা হয় মায়ের গর্ভেই শিশুরা এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়। তবে প্রকাশ ঘটে জন্মের প্রথম তিন বছরের মধ্যে। সেক্ষেত্রে Early Intervention এর মাধ্যমে জন্মের ১৮ মাস থেকে ৩৬ মাস বয়সের মধ্যে আটিজম শনাক্তকরণ ও যথোপযুক্ত শিক্ষার ব্যবস্থা, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষিত অটিজম থেরাপিস্টের মাধ্যমে থেরাপি প্রদানের ফলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরানো যেতে পারে।

অটিজম ও খাদ্য-পুষ্টি

এ কথা বলে রাখা প্রয়োজন, খাদ্যজনিত কারণে অটিজম হয় না। তবে গ্লুটিন ও কেজিনযুক্ত খাবার পরিহার, রক্তের শর্করার ভারসাম্য রক্ষা, ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতিপূরণ, থাইরয়েডের কার্যকারিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অটিস্টিক বাচ্চার অতি চঞ্চলতা, আক্রমণাত্মক আচরণ, মনোযোগ স্বল্পতা, চক্ষু যোগাযোগহীনতা, বিকৃত অঙ্গভঙ্গি ও অন্যান্য উপসর্গের তীব্রতা কমানো যেতে পারে।

অটিজম উপসর্গ কমাতে খাদ্যভ্যাসের ভূমিকা-
গ্লুটিন ও কেজিনযুক্ত খাবার পরিহার :

অটিস্টিক বাচ্চার খাদ্যে গ্লুটিন (গম, যব, বার্লি, রাই, ইস্ট ইত্যাদি) ও কেজিন (দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার) যুক্ত খাবারের ত্রুটিপূর্ণ পাচন, শোষণ ও বিপাকের ফলে বাচ্চাদের মধ্যে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়। সেক্ষেত্রে খাবার তালিকা থেকে গ্লুটিন ও কেজিনযুক্ত খাবার ধীরে ধীরে সরিয়ে ফেলার মাধ্যমে অতি অস্থিরতার পরিমাণ কমানো যেতে পারে।
রক্তের শর্করার ভারসাম্য রক্ষা :
সাধারণত অটিস্টিক বাচ্চারা অস্বাভাবিক গ্লুকোজের সহনশীলতা প্রর্দশন করে। রক্তে গ্øুকোজের মাত্রা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় ফলে বাচ্চার একাগ্রতা, আচরণগত সমস্যা ও অস্থিরতার মাত্রা বাড়তে থাকে। সেক্ষেত্রে রক্তের শর্করার ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন।

থাইরয়েডের কার্যকারীতা বৃদ্ধি:

হাইপোথায়রয়েডিজমের সাথে অটিজম উপসর্গ’র সম্পর্ক লক্ষণীয়। যার ফলে বাচ্চাদের মধ্যে মানসিক অক্ষমতা, কথায় অস্পষ্টতা ও স্নায়ুবিক দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তাই থায়রয়েড হরমোন তৈরীতে সামুদ্রিক মাছ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে অটিস্টিক বাচ্চাকে মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও স্নায়ুবিক দিক দিয়ে উন্নত করা যেতে পারে।

ভিটামিন ও মিনারেলসের ঘাটতিপূরণ:

রিচমর্ড-ভার্জিনিয়া হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ মেরী মেগসন বিশ^াস করেন, অটিস্টিক শিশুদের ভিটামিন-এ দৃষ্টিশক্তি ও মস্তিষ্ক কোষ নির্মাণের জন্য অত্যবশ্যক; যা বাচ্চাদের ঊুব ঈড়হঃধপঃ বাড়তে সাহায্য করে। আর এই ভিটামিন-এ’র সবচেয়ে ভাল উৎস মায়ের বুকের দুধ, কড লিভার অয়েল, গাজর, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো ইত্যাদি। পাশাপাশি ভিটামিন বি-৬, সি এবং ম্যাগনেসিয়াম উল্লেখযোগ্যভাবে অটিস্টিক বাচ্চার উপসর্গ কমাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ভিটামিনগুলো সহজ উৎস থেকে গ্রহণ করা প্রয়োজন।

অটিজমে সীমাবদ্ধতা (গ্লুটিন ও কেজিনযুক্ত…) ও বিকল্প খাবার

গ্লুটিনযুক্ত খাবার: গম, যব, বার্লি, রাই, ইস্ট ইত্যাদি বিকল্প হিসাবে চাল, চালের আটার রুটি, আলু, মিষ্টি আলু, বাদাম, কর্ণ বাচ্চাকে দেয়া যায়।

কেজিনযুক্ত খাবার: দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বিকল্প হিসাবে সয়াদুধ, অ্যালমন্ড বাটার, ডিম দেয়া যায়।

  • অতি মাত্রায় সরল শর্করা, চিপস্, মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকলেট, ঠান্ডা পানীয় ইত্যাদি’র বিকল্প হিসাবে ডায়াবেটিস সম্পর্কিত খাবার দেয়া যায়।
শেষ কথা

পরিশেষে একটি কথা বাবা মা’দের বলে রাখা প্রয়োজন, একটি খাবার ডায়েরী রাখুন এবং নোট করুন আপনার বাচ্চার উপসর্গগুলো কোন খাবারে বাড়ছে আর কোন খাবারে কমছে, যে খাবারে উপসর্গ কমে সে খাবারগুলো আপনার বাচ্চার জন্য নির্বাচন করুন, বাচ্চার প্রতি সদয় হোন, সৃষ্টিকর্তাকে ডাকুন তিনি অবশ্যই আপনাকে নিরাশ করবেন না।



ce optimized by WP Rocket. Learn more: https://wp-rocket.me - Debug: [email protected] -->